পেকুয়া প্রতিনিধি
তেলজাতীয় ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষকদের উৎপাদিত ফসল প্রক্রিয়াজাতকরণে সহায়তা এবং স্থানীয় পর্যায়ে উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে কক্সবাজারের পেকুয়ায় কৃষক গ্রুপের মাঝে বিনামূল্যে একটি তেল নিষ্কাশন যন্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের “তেলজাতীয় ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি” শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এ যন্ত্র বিতরণ করা হয়।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে পেকুয়া উপজেলা কৃষি অফিস চত্বরে মেহেরনামা ব্লকের মুড়ারপাড়া এলাকার তেলজাতীয় ফসল উৎপাদনকারী কৃষক গ্রুপের কাছে যন্ত্রটি হস্তান্তর করা হয়।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, তেলজাতীয় ফসলের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি উৎপাদিত ফসলের স্থানীয়ভাবে প্রক্রিয়াজাতকরণের সুযোগ তৈরি করা এ ধরনের যন্ত্র বিতরণের অন্যতম উদ্দেশ্য। এর মাধ্যমে কৃষকরা নিজেদের উৎপাদিত তেলবীজ থেকে তেল নিষ্কাশনের সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে আশপাশের কৃষকরাও নির্ধারিত ভাড়ার বিনিময়ে যন্ত্রটি ব্যবহার করতে পারবেন। এতে একদিকে উৎপাদিত ফসলের মূল্য সংযোজন হবে, অন্যদিকে কৃষক গ্রুপের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে উদ্যোক্তা তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হবে।
বিতরণে উপস্থিত ছিলেন পেকুয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফারুক হোসেন চৌধুরী, উপজেলা প্রকৌশলী মো. রবিউল হোসেন, পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ছৈয়দ আলম, গোলাম মোস্তফা ও আক্তার কামাল বাবু। এ ছাড়া উপকারভোগী কৃষক গ্রুপের সভাপতি মোহাম্মদ ইউনুছ, সদস্য মো. ফারুক, মোহাম্মদ রিফাতসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফারুক হোসেন চৌধুরী বলেন, তেল নিষ্কাশন যন্ত্রটি শুধু সংশ্লিষ্ট কৃষক গ্রুপের জন্য নয়, আশপাশের কৃষকদেরও কাজে লাগবে। এর মাধ্যমে স্থানীয়ভাবে উদ্যোক্তা তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং কৃষকরা উৎপাদিত তেলবীজ প্রক্রিয়াজাত করে বাড়তি আয়ের সুযোগ পাবেন।
তিনি বলেন, যন্ত্রটি ব্যবহারের মাধ্যমে যে ভাড়া পাওয়া যাবে, তা থেকে যন্ত্রটির পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবহারজনিত অন্যান্য ব্যয় নির্বাহ করতে হবে। যন্ত্রটির যথাযথ ব্যবহার ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করার জন্য কৃষক গ্রুপকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
কৃষি কর্মকর্তা আরও স্পষ্ট করে বলেন, সরকারি প্রকল্পের আওতায় বরাদ্দ দেওয়া এ যন্ত্র কোনো অবস্থাতেই বিক্রি বা অন্য কারও কাছে হস্তান্তর করা যাবে না। কৃষক গ্রুপের মাধ্যমে যন্ত্রটির ব্যবহার নিশ্চিত করে স্থানীয় কৃষকদের উপকারে কাজে লাগাতে হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তেলজাতীয় ফসল উৎপাদনের পর তা প্রক্রিয়াজাত করার সুযোগ স্থানীয় পর্যায়ে তৈরি হলে কৃষকদের উৎপাদন ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে কৃষকের উৎপাদিত তেলবীজ স্থানীয়ভাবেই প্রক্রিয়াজাত করা সম্ভব হলে পরিবহন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ সংক্রান্ত অতিরিক্ত ঝামেলা কমার পাশাপাশি কৃষক পর্যায়ে মূল্য সংযোজনের সুযোগ তৈরি হবে।
কৃষি বিভাগের এ উদ্যোগের ফলে মেহেরনামা ব্লকের মুড়ারপাড়া এলাকার কৃষকরা তেলজাতীয় ফসল উৎপাদনে আরও উৎসাহিত হবেন এবং ভবিষ্যতে এ খাতে স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরির সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
